Comilla TV - The First online TV of Comilla

যাত্রীদের কাছ থেকে চড়া দাম রাখছে কুমিল্লা হাইওয়ে রেস্তোরাঁগুলো

মো. লুৎফুর রহমান:

কুমিল্লা.টিভি

প্রকাশিত : ০৪:৩২ পিএম, ২৪ অক্টোবর ২০২০ শনিবার

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে ওঠেছে হোটেল-রেস্তোরাঁ। বিভিন্ন সময়ে জরিমানার পরও অনেক রেস্তোরাঁ যাত্রীদের কাছ থেকে খাদ্যপণ্যের চড়া দাম নিচ্ছে। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরি ও পরিবেশনের অভিযোগ তো রয়েছেই। এ দিকে এসব হোটেল-রেস্তোরাঁর অধিকাংশের নেই পরিবেশ ছাড়পত্র। হোটেল-রেস্তোরাঁর বর্জ্য অবাধে মহাসড়কের পাশে বিভিন্ন স্থানে ফেলার কারণে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এতে দূষিত হচ্ছে পরিবেশ, বাড়ছে দুর্ভোগ। গাড়ির চালক, যাত্রী ও পথচারীদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

সরেজমিন ঘুরে জানা যায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের অনেকটা মধ্যবর্তী স্থান কুমিল্লা। এ অংশে শতাধিক হোটেল-রেস্তোরাঁ গড়ে ওঠেছে। ঢাকা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, কাপ্তাই, সেন্টমার্টিন ও টেকনাফে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে যাতায়াতকারী বিলাসবহুল বাস, প্রাইভেট গাড়ি ও মালবাহী ট্রাক কুমিল্লা হয়ে চলাচল করে। এ সব বাহনের চালক ও যাত্রীরা দীর্ঘ পথের ক্লান্তি মেটাতে সামান্য বিশ্রাম ও খাবারের জন্য মহাসড়কের এ জেলার দাউদকান্দি, চান্দিনা, বুড়িচং, আদর্শ সদর, সদর দক্ষিণ ও চৌদ্দগ্রামের বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠা হোটেল-রেস্তোরাঁয় স্বল্প সময়ের যাত্রাবিরতি করে থাকেন। সূত্র জানায়, দূরপাল্লার অনেক পরিবহন, বাস মালিক ও চালকদের সঙ্গে এসব রেস্তোরাঁয় যাত্রা বিরতির চুক্তি থাকে। বিরতিকালে চালক, সুপার ভাইজার ও হেলপারের খাবার ফ্রি দেওয়া হয়। থাকে তাদের কমিশনও। কমিশনের টাকা তুলতে চড়া দাম দিতে হয় যাত্রীদের।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বেশি দামে খাবার বিক্রি ও নোংরা পরিবেশের জন্য ইতিপূর্বে মহাসড়কের কুমিল্লা অংশের মিয়ামী হোটেলকে তিনবার, হোটেল কানন, তৃপ্তি হোটেল, ডলি রিসোর্ট, ধানসিঁড়ি রেস্তোরাঁকে দুই বার করে, তাজমহল কমপ্লেক্স, ফুড প্যালেস, টাইমস স্কোয়ার, ভিটা ওয়ার্ল্ড, হাইওয়ে ইন রেস্তোরাঁ, মাতৃভান্ডার হোটেল ও রেস্টুরেন্ট, ব্লু ডায়মন্ড হোটেল, কুমিল্লা হাইওয়ে হোটেল, মায়ামি হোটেল, হোটেল নূরজাহান ও ছন্দু হোটেলকে একবার করে জরিমানা করা হয়। একই কারণে জরিমানা গুনতে হয়েছে নুরমহল হোটেল, ময়নামতি হাইওয়ে রেস্টুরেন্ট, সৌদিয়া হোটেল, আইরিশ হিল, জমজম হোটেল, জাহানারা হোটেল ও বৈশাখী হোটেলকে।

চট্টগ্রামের যাত্রী আবদুল মতিন, ফাতেমা বেগমসহ অন্তত ১২ জন বলেন, ‘যাত্রা বিরতির সময় অনেক রেস্তোরাঁয় পাঁচ টাকার পরোটা ২০ টাকা, ১০ টাকার চা ৩০ টাকায় বিক্রি করে।

কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ড সরকারি মডেল কলেজের শিক্ষক এম এইচ মনির বলেন, ‘মহাসড়কের পাশের হোটেল-রেস্তোরাঁগুলোর বর্জ্য সংশ্লিষ্টরা মিনি ট্রাক ও ভ্যানযোগে দিনের পর দিন মহাসড়কের কিনারায় ফেলছে। এতে সড়কের পাশে যত্রতত্র ময়লার ভাগাড় সৃষ্টি হয়েছে।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর-কুমিল্লা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আছাদুল ইসলাম বলেন, ‘অভিযোগ পেলে ও তদারকি করে নোংরা পরিবেশ ও মূল্যতালিকা না থাকার বিষয়ে জরিমানা করি। বেশি দামে খাবার বিক্রি ও নোংরা পরিবেশের জন্য গত তিন বছরে হাইওয়ের অর্ধশতাধিক রেস্তোরাঁ মালিককে জরিমানা করা হয়েছে।’

কুমিল্লা পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শওকত আরা কলি বলেন, ‘হোটেল-রেস্তোরাঁর জন্য পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে ছাড়পত্র নেওয়া বাধ্যতামূলক। কারো বিরুদ্ধে ছাড়পত্র না নিয়ে কিংবা নবায়ন না করে কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 

এই বিভাগের জনপ্রিয়