Comilla TV - The First online TV of Comilla

মালয়েশিয়ায় করোনাকালে ৯ বাংলাদেশী সহ ৪৯ প্রবাসীর আত্মহত্যা

আশরাফুল মামুন, মালয়েশিয়া

কুমিল্লা.টিভি

প্রকাশিত : ০৩:৩৫ পিএম, ৭ ডিসেম্বর ২০২০ সোমবার

মালয়েশিয়া চলমান কোভিড-১৯ মহামারী চলাকালে কর্মহীন, আর্থিক সংকট এবং পারিবারিক, সামাজিক ও মানসিক চাপে ৯ জন বাংলাদেশী সহ প্রায় ৪৯ জন অভিবাসী শ্রমিক আত্মহত্যা করে নিহত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি সংখ্যাক অভিবাসী কর্মী আত্মহত্যা করে নিহত হয়েছেন মায়ানমারের নাগরিক প্রায় ১৪ জন। যদিও দেশটির মানবাধিকার সংস্থার এক কর্মী বলেছেন পুলিশের এই রিপোর্ট উদ্বেগজনক কারণ প্রকৃত সংখ্যা আরো অনেক বেশি।
সম্প্রতি মালয়েশিয়ার সংবাদ মাধ্যম যেমন, হারিয়ান মেট্রো, মালয়েশিয়া কিনি এবং বুকিত আমান (সিআইডি) ও বালাই(থানা) পুলিশের আলাদা আলাদা প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। নিহত অভিবাসীর মধ্যে বাংলাদেশের ৯ জন, মায়ানমারের ১৪ জন, নেপালের ৯ জন, ভারত ৫ জন, ইন্দোনেশিয়া ৬ জন,পাকিস্তান ২ জন, ভিয়েতনাম ১জন এবং ব্রিটিশ নাগরিক ১ জন ও অস্ট্রেলিয়ার ১ জন নাগরিক রয়েছেন। বাকিদের এখনো পরিচয় সনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

জুস অনলাইনের প্রতিবেদনে লিখেছে, দেশটিতে ১৮ মার্চ থেকে শুরু হওয়া একটানা দীর্ঘ লকডাউনে গনহারে মানুষ তাদের কর্ম হারিয়েছে। এমতাবস্থায় চরম আর্থিক ও খাদ্য সংকট পড়ে অনিশ্চিত ছিল অভিবাসী শ্রমিকদের কর্ম জীবন। লকডাউন চলাকালীন মালয়েশিয়ান নাগরিকদের সরকার প্রতিমাসে একটি নিদিষ্ট হারে আর্থিক অনুদান প্রদান করেছে। যার কারনে মালয়েশিয়ানদের দৈনন্দিন জীবন স্বাভাবিক ভাবেই কেটেছে। অর্ধাহারে অনাহারে দিন কাটানো হতভাগ্য অভিবাসীদের কপালে জুটেনি এক মুঠো সরকারি সাহায্য। বেসরকারি ভাবে অনেকেই যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা করার চেষ্টা করেছেন যা সব অভিবাসীদের ভাগ্যে জুটেনি। অভিবাসী কর্মীরা যেমন কর্মহীন হয়ে অনিশ্চয়তায় ছিল তেমনি তাদের নিজ দেশে থাকা পরিবারগুলো একই অবস্থায় ছিল।

মালয়েশিয়ার তেনেগানিটার(মানবাধিকার সংস্থা) এর নির্বাহী পরিচালক গ্লোরিন দাস এক বিবৃতিতে উদ্বেগ জানিয়ে বলেছেন, অভিবাসী কর্মীদের আত্মহত্যার সংখ্যাটি আরো বেশি। সব ঘটনা মিডিয়া তে আসেনি। সরকার তার নিজের নাগরিকদের পূর্নবাসনের ব্যাবস্থা করলেও বিদেশিরা কোন সহযোগিতা পায়নি। সবচেয়ে বড় কতা হলো আত্মহত্যা একটি প্রতিরোধযোগ্য সমস্যা। বিদেশিদের সরকার সঠিক পন্থায় ব্যাবস্থাপনার মাধ্যমে পূর্ণবাসন করা উচিত। তাদের সম মর্যাদা দিয়ে কোভিড-১৯ পেনডেমিক পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হবে এবং এখনই তাদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ব্যাবস্থা নেওয়া উচিত। আরেক মানবাধিকার সংস্থা এনএসআই এর নির্বাহী পরিচালক এ্যাড্রিয়ান পেরেরা বলেন, মালয়েশিয়া তাদের নিজেদের স্বার্থের জন্য বার বার ভুলে যায় অভিবাসী শ্রমিকরা মালয়েশিয়া উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এমনকি পরিসংখ্যানে দেখা যাবে তাদের দ্বারা মালয়েশিয়ায় অপরাধ ও কম হয় । অথচ বিদেশিদের কে অপরাধীর মত দেখা হয় এবং তাদের করোনা ভাইরাসের উচ্চ ঝুকি হিসেবে চিন্তা করা হয়।