Comilla TV - The First online TV of Comilla

বুড়িচংয়ে আবারো ফুটতে শুরু করেছে হলুদ পদ্ম

কুমিল্লা টিভি ডেস্ক

কুমিল্লা.টিভি

প্রকাশিত : ০৮:৩৬ পিএম, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০ বুধবার

 


কুমিল্লার বুড়িচংয়ের দক্ষিণ গ্রামের পদ্মবিলে আবারো ফুটতে শুরু করেছে হলুদ পদ্ম। জেলার সীমান্তবর্তী বুড়িচং উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ গ্রামে শতাব্দী প্রাচীন জলাশয়টিতে প্রাকৃতিকভাবেই যুগ যুগ ধরে পদ্মফুল ফুটে আসছিল। ৩ বছর ধরে ব্যাপক আকারে ফুল ফোটা শুরু হলে এক সময় স্থানীয়দের পাশাপাশি জেলাসহ সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে বিলে থাকা লাল, সাদার সাথে বিরল প্রজাতির হলুদ পদ্মের খবর।

এর আগে চলতি মাসের প্রথম দিকে ঢাকা থেকে আসা গবেষকরা বিরল প্রজাতির হলুদ পদ্ম ফুলটির সংরক্ষণের জন্য লাল পতাকা টানিয়ে সংরক্ষিত এলাকা ঘোষণা করেন। তারপরও নৌকার মাঝিদের বেপরোয়া নৌকা চালানো আর দর্শনার্থীদের ফুল ছেঁড়ায় বিলটিতে থাকা হলুদ পদ্মের অস্তিত্ব সংকট দেখা দিয়েছিল। ১৩ সেপ্টেম্বর আবারো গবেষকরা এসে স্থানীয় বিল সংরক্ষণ কমিটির সহযোগিতায় নতুন করে বিল সংরক্ষিত চিহ্নিত করায় বাড়ছে ফুল ফোটা।

ফুল ছিঁড়লে মাঝিদের আর্থিক জরিমানা বা ৫ দিন নৌকা চালানো বন্ধের ঘোষণাও রয়েছে।


হলুদ পদ্মের খবর জেনে ২০১৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের কয়েকজন গবেষক আসেন এই গ্রামে। শুরু হয় গবেষণা।

চলতি বছরের আগস্টের প্রথম দিকে বিলজুড়ে পদ্মফুল ফুটলেও করোনার প্রভাবের কারণে তেমন দর্শনার্থীর দেখা মেলেনি বিলজুরে। তবে ঈদুল আযহার সময় থেকেই দল বেঁধে শত শত দর্শনার্থী বিলে আসতে থাকেন।

পরে সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ সদস্যের একটি গবেষকদল আসে দক্ষিণগ্রামে। তারা বিলের বিরল প্রজাতির হলুদ পদ্মের সংরক্ষণের জন্য লাল নিশান বাঁশের খুঁটিতে লাগিয়ে দড়ি বেঁধে কিছু এলাকা সংরক্ষণের জন্য নির্ধারণ করেন।

দক্ষিণ গ্রামের ইব্রাহিম জানান, বিলে নৌকা চালকরা বেপরোয়াভাবে যত্রতত্র নৌকা চালানোসহ দর্শনার্থীদের ফুল ছেঁড়ার কারণে হঠাৎ বিলটিতে পদ্মফুলের অস্তিত্ব সংকট দেখা দেয়। অভিযোগ উঠেছে মাঝিরা তাদের নৌকা নিয়ে দর্শনার্থীদের খুশি করতে বিলের গভীরে নিয়ে যান। এই মাঝিরা গবেষকদের টানানো লাল নিশানের খুঁটিগুলোর কিছু তুলে ফেলে এবং কিছু খুঁটি পূর্ব-দক্ষিণ পাশে সরিয়ে ফেলে। এতে গবেষকদের চিহ্নিত হলুদ পদ্ম সংরক্ষণের স্থানগুলো হুমকির মুখে পড়ে।

পরবর্তীতে ১৩ সেপ্টেম্বর আবারো গবেষকরা এসে হলুদ পদ্মের সংরক্ষিত স্থানগুলোর বেহাল অবস্থা দেখে নতুন করে হলুদ পদ্মের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে আবারো লাল নিশান টনিয়ে, দড়ি বেঁধে সীমানা চিহ্নিত করে পাশাপাশি ব্যানার টানিয়ে ফুল রক্ষার চেষ্টা করেন। বর্তমানে গবেষকরা বিলে বেশ কয়েকটি ব্যানার টানিয়ে দক্ষিণ অংশে কিছুটা বড় এলাকাজুড়ে লাল নিশানা টাঙিয়ে দড়ি বেঁধে হলুদ পদ্মের সংরক্ষণ, গবেষণা ও বীজ সংগ্রহের চেষ্টা করছেন।

 

স্থানীয়রা একজন জানান, আমরা এই বিলের জমিতে চাষাবাদ করেই জীবিকা নির্বাহ করি। অথচ বিলের বিরল প্রজাতীর ফুল সংরক্ষণের জন্য আমাদের চাষাবাদে বা জমির ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে, গতবারের মতো এবারো আমরা সেভাবে কাঙ্ক্ষিত চাষাবাদ করতে পারবো না। এ অবস্থায় সরকারের কাছে জমির মালিকদের ক্ষতিপূরণসহ বিলটি সংরক্ষণের জন্য অর্থ বরাদ্দেরও দাবী জানান স্থানীয়রা। এছাড়াও দর্শনার্থীদের সুবিধার জন্য রোদ-বৃষ্টি থেকে রক্ষা পেতে আশ্রয় কেন্দ্র, টয়লেট নির্মাণের দাবীও করেন তারা।

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরল হাসান জানান, আমি ঘটনাস্থলে গিয়েছি। সেখানকার ইউপি চেয়ারম্যান, মেম্বারসহ স্থানীয় বিল সংরক্ষণ কমিটির লোকজনদের সাথে নিয়ে বিলটি সংরক্ষণের জন্য নির্দেশনা দিয়েছি।

প্রতি সপ্তাহেই বৃহস্পতি-শুক্র-শনিবারে এই পদ্মবিলে বিপুল দর্শনার্থী ভিড় হয়।

এই বিভাগের জনপ্রিয়