Comilla TV - The First online TV of Comilla

কুমিল্লার বাজারে ফল আছে, ক্রেতা নেই

কুমিল্লা.টিভি

প্রকাশিত : ০৬:৩৬ পিএম, ২৯ জুন ২০২০ সোমবার

কুমিল্লার বাজারে পর্যাপ্ত ফল মজুদ আছে। তবে ক্রেতা নেই। অন্য যে কোনো বছরের তুলনায় বিক্রি কমে অর্ধেকে নেমেছে। এ নিয়ে চিন্তিত জেলার ফল ব্যবসায়ীরা।
নগরীর টমছম ব্রিজ, রানীর বাজার, শাসন গাছা, বাদশা মিয়ার বাজার, চক বাজার, কান্দিরপাড় ও ও রাজগঞ্জ ঘুরে দেখা যায় বাজারে আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু, নাশপাতি, ডেউয়া, চাপালিশ, কলা, আনারসে ভরপুর।

বাজারজুড়ে ফলের মৌ মৌ গন্ধে ছড়িয়ে আছে। তবে আকৃষ্ট হচ্ছে না ক্রেতারা। বাজারে পর্যাপ্ত ফলের মজুদ থাকলেও নেই ক্রেতাদের সমাগম। আবার ক্রেতা কম থাকলেও দাম কমাচ্ছেন না বিক্রেতারা।

বিভিন্ন বাজারের পাইকারী ও খুচরা ফল বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বাজারে রাজশাহীর আমের মজুদ বেড়েছে। আম্রপালি ৭০ টাকা, হাড়িভাঙ্গা ৮০ টাকা, লেংড়া ৭৫-৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কিছু দিন পর বাজারে আসছে ফজলি আম। মাল্টা ২৩০ টাকা, আপেল-১৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, এ বছর অন্যান্য ফলের চেয়ে কাঁঠাল কিছুটা ভালো দামে বিক্রি হয়েছে।

এদিকে সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় এ বছরও ভারত থেকে প্রচুর আনারস প্রবেশ করেছে কুমিল্লায়। এছাড়াও এসেছে চাপালিশ, কলা ও আম।

কান্দিরপাড়ের ফল ব্যবসায়ী ইদ্রিস জানান, মধুমাস জ্যৈষ্ঠ পার হলো। এখন আষাঢ় মাস চলছে। এখনো টার্গেট অনুযায়ী ফল বিক্রি করতে পারিনি। অন্যান্য বছর প্রত্যেক ফল ব্যবসায়ী বাজারে প্রতিদিন গড়ে ১০-১৫ হাজার টাকার ফল বিক্রি করতেন। এ বছর করোনার কারণে অর্ধেকে নেমে এসেছে বিক্রি। এখন গড়ে ৪-৫ হাজার টাকার ফল বিক্রি করা যায়।

রাজগঞ্জের ফল ব্যবসায়ী মহিউদ্দিন জানান, অন্য বছরের তুলনায় এ বছর ফলের উৎপাদন ভালো হয়েছে। বাজারে ফল এসেছে অনেক। প্রত্যেক ব্যবসায়ীর কাছে পর্যাপ্ত ফল মজুদ আছে। তবে ব্যবসায়ীরা এ বছর কাঙ্খিত পরিমাণ ফল বিক্রি করতে পারছেনা।

নগরীর ডিসি বাংলো সড়কের মাথায় ফল বিক্রি করেন সুমন। তিনি জানান, অন্য বছরগুলোতে দেশি ফলের মধ্যে জাম, ডেউয়া ও লটকনের চাহিদা ব্যাপক থাকলেও এ বছর এসব ফলের চাহিদা কমে গেছে।

এ দিকে করোনার কারণে মানুষজন অনলাইনে ফলের অর্ডার করছে।

রায়হান নামে এক যুবক জানান, এ বছর তিনি অনলাইনে অন্তত ৩০ মণ আম বিক্রি করেছেন। মানুষ অনেক রেসপন্স করেছে।

টমছম ব্রিজের ফল বিক্রেতা সাইদ আবদুল খলিল বলেন, করোনার কারণে এমনিতেই বাজারে ক্রেতা কম। তার ওপর রয়েছে নগরীর জনবহুল চারটি ওয়ার্ডে লকডাউন। ফলে ফলের দোকানে কাস্টমার কমে গেছে। আম নিয়ে বেশ চিন্তায় আছি। সময় মতো বিক্রি করতে না পারলে পঁচে যাবে। তখন লোকসানে পড়তে হবে।

ব্যবসায়ীদের আশা চারটি ওয়ার্ডের লকডাউন উঠে গেলে এবং নতুন করে যদি কোনো এলাকা লকডাউন না করা হয় তাহলে ফল বিক্রি আগামী সপ্তাহ থেকে জমে উঠবে।

এই বিভাগের জনপ্রিয়