Comilla TV - The First online TV of Comilla

আজ বৃহত্তর লাকসাম মুক্ত দিবস

ফারুক আল শারাহ:

কুমিল্লা.টিভি

প্রকাশিত : ০৫:১৮ পিএম, ১১ ডিসেম্বর ২০২০ শুক্রবার


আজ ১১ ডিসেম্বর (শুক্রবার) বৃহত্তর লাকসাম মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের আজকের দিনে মুক্তিবাহিনীর প্রচন্ড প্রতিরোধের মুখে পাকবাহিনী লাকসাম থেকে পালাতে বাধ্য হয়। এ দিনে লাকসাম সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলন করা হয়। বৃহত্তর লাকসাম (লাকসাম, মনোহরগঞ্জ ও নাঙ্গলকোট) মুক্ত দিবস উপলক্ষে স্থানীয় উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ প্রতি বছরের ন্যায় আজ ব্যাপক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিনটিকে স্মরণ করছে।
সূত্রে জানা যায়, ১৯৭১ সালের ১৫ এপ্রিল পাকিস্তানি সেনারা প্রথমে লাকসাম জংশন ও দৌলতগঞ্জ বাজার দখলে নিয়ে লাকসাম সিগারেট ফ্যাক্টরিতে স্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করে। এখান থেকেই চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনীসহ এ অঞ্চলের বিভিন্ন জায়গা নিয়ন্ত্রণ করতো। এ ক্যাম্প থেকে পাক বাহিনী লাকসাম, মনোহরগঞ্জ, নাঙ্গলকোট, ফেনী, চাঁদপুর, নোয়াখালী ও কুমিল্লা দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় অত্যাচার, নির্যাতন, খুন, ধর্ষণ ও ধ্বংসাত্মক কর্মকান্ড চালাতো।
পাক বাহিনীর অত্যাচার-নির্যাতনে মুক্তিবাহিনী প্রতিরোধমুখর হয়ে উঠে। তারা ভারতে ট্রেনিং শেষে ধীরে ধীরে সংগঠিত হয়ে পাক সেনাদের উপর আক্রমণ চালাতে থাকে। এতে পাক সেনাদের সাথে লাকসামসহ আশে-পাশের এলাকায় মুখোমুখি যুদ্ধ শুরু হয়। পরবর্তীতে মিত্র বাহিনী লাকসাম জংশন ও সিগারেট ফ্যাক্টরীসহ বিভিন্ন অবস্থানের উপর বিমান হামলা চালিয়ে পাকসেনাদের তিন দিক থেকে ঘিরে ফেলে। দুই দিন ধরে প্রচন্ড যুদ্ধের পর পাক বাহিনী লাকসাম থেকে পশ্চিম দিকে মুদাফরগঞ্জ হয়ে চাঁদপুরের দিকে পালাতে থাকে। পালানোর সময় মিত্র বাহিনী চুনাতী নামক গ্রামে এবং মুক্তিবাহিনী শ্রীয়াং ও বাংলাইশে পাক বাহিনীকে মুখোমুখি আক্রমণ করে। এ সকল আক্রমণে পাকবাহিনীর অসংখ্য প্রাণহানিসহ অনেক পাকসেনা বন্দি হয়। ১১ ডিসেম্বর ভোরে যৌথবাহিনী লাকসামকে শত্রুমুক্ত ঘোষণা করেন। ওইদিন লাকসাম সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে মুক্তিযোদ্ধা নজির আহমেদ ভুঁইয়া প্রথম স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলন করেন। পাকবাহিনীকে এলাকা থেকে হটিয়ে আনন্দ উল্লাসে মেতে উঠে মুক্তিবাহিনী সহ সাধারণ মানুষ।
লাকসাম উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার আবদুল বারী মজুমদার বলেন, সকালে হানাদার বাহিনীর গুলিতে কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা ও ভারতীয় সেনা প্রাণ হারান। একপর্যায়ে বুলেট শেষ হয়ে যায় পাকিস্তানি সেনাদের। এরপর শুরু হয় বেয়নেটের লড়াই, চলে দুপুর ১২টা পর্যন্ত। একপর্যায়ে মিত্রবাহিনীর কাছে আত্মসমপর্ণ করে কমবেশি ৫০ জন পাকিস্তানি সৈন্য। ওই লড়াইয়ে নিহত হয় অনেক পাকিস্তানি সৈন্য। হানাদারের গুলিতে মারা যায় বহু সাধারণ মানুষও।
লাকসাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ.কে.এম সাইফুল আলম বলেন, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত লাকসাম বেলতলি বধ্যভূমিতে সরকারিভাবে স্মৃতিস্তম্ভ তৈরির প্রস্তাবনা করা হয়েছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হবে।

এই বিভাগের জনপ্রিয়